Freethinking
Think About Things Differently !

Think About Things Differently !

মুক্ত জীবনে আপনাকে স্বাগতম, শিশুদের নিরপেক্ষ শিক্ষা নিশ্চিত করুন

অভিনন্দন! আপনি জন্ম থেকে শুনে আসা, জেনে আসা বিশ্বাসের বাইরে চিন্তা করতে পেরেছেন। এটা খুব কঠিন কাজ এবং খুব কম মানুষই এটা করতে পারে। এখন আপনি যেকোন বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে পারবেন এবং একটা অদ্ভুত আনন্দ বা স্বাধীনতা অনুভব করতে পারবেন।

এখন আপনি আরও চিন্তা করুন, এটা কেন, ওটা কেন – এরকম প্রশ্ন করতে থাকুন। যেসব বিষয় নিয়ে আগে কখনো ভাবেননি সেসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করুন। মজার বিষয় হলো – আপনি খুব সহজে উত্তর পেয়ে যাবেন। এবং এই প্রশ্ন-উত্তর খেলাটা বেশ মজার।

যেমন ধরুন কেন এমন একটি ভাষায় পবিত্র গ্রন্থ লেখা হলো যে ভাষায় পৃথিবীর খুব সামান্য সংখ্যক লোক কথা বলে? সেই ভাষাটি পৃথিবীর কঠিনতম ভাষার একটি। কেন সারা পৃথিবীর লক্ষ কোটি মানুষকে বছরে একবার একটা নির্দিষ্ট শহরে যেতে হবে পূন্য অর্জনের জন্য যেখানে সারা মহাবিশ্বই বিধাতার সৃষ্টি? কেন স্বর্গের খাবারের মেনুতে আংগুরের নাম আছে কিন্তু আমাদের দেশের আম-লিচুর নাম নেই? স্বর্গের এতো স্বর্নের, হীরক খচিত বাড়ি দিয়ে আপনি কি করবেন? কোন জিনিসের এতো প্রাচুর্য থাকলে তার কি আর কোন মূল্য থাকে? স্বর্গে মাইলের পর মাইল খেজুর বাগানের মালিক হয়ে কি করবেন? কার কাছে বিক্রি করবেন? কে খাবে? স্বর্গের একমাত্র লোভনীয় জিনিস হলো ৭২ অপ্সরী তাও শুধু পুরুষের জন্য, নারীরা হবেন তার স্বামীর ৭২ অপ্সরীর সর্দারনী, এগুলো কেন এতো আকর্ষনীয়? পুরুষের একমাত্র চাহিদা কি অক্ষত-যোনী রমনী সম্ভগ যার কারনে স্বর্গে তার লোভ দেখানো হয়েছে বারংবার (Quran 55:56, 37:48-49, 52:20, 55:58, 55:72, 78:33-34, 56:22-23, 56:35-38) ? এছাড়াও পুরুষের জন্য রয়েছে গেলমান বা কিশোর 52:24, সমকামীদের পৃথিবীতে হত্যা করতে বলে স্বর্গে কেন তার লোভ দেখানো হয়? পবিত্র গ্রন্থে কেন পরবর্তীতে আবিষ্কার হওয়া আমেরিকা, হিমালয়, আমাজন, নায়াগ্রার কথা একবারও আসলো না? ৩০০০ বছর আগের ফারাওদের কথা আসলো কিন্তু তারও অনেক পরে খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ এ জন্মানো পৃথিবীর আরেকটি বড় ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধের কথাটা আসলো না?

এসব প্রশ্ন নিয়ে ভাবুন, নিজেই উত্তর পেয়ে যাবেন এবং উত্তর পাওয়ার পর নিজেকে বেশ বড় দার্শনিক হিসেবে মনে হবে। একই সাথে আপনি বুঝতে পারবেন – আপনার আশে পাশের ৯০ ভাগ মানুষই চিন্তা করেনা বা করতে পারেনা। আপনি আর দশজনের চেয়ে আলাদা – এই সুখানুভূতিটা অনুভব করতে থাকুন। তোতা পাখির মত শিখিয়ে দেয়া জীবন থেকে বের হয়ে অন্য দেশ, ধর্ম, সম্প্রদায়, প্রকৃতির বৈচিত্র, সৌন্দর্য উপভোগ করুন – লাইফ ইজ বিউটিফুল।

আমি সেই হাইস্কুলে পড়ার সময় থেকেই এগুলো নিয়ে প্রশ্ন করা শিখেছি।

Think about things differently!

এই পরিবেশ যদি চান, তবে শিশুদের সেই ছোট থেকেই নিরপেক্ষ শিক্ষা দিতে হবে। স্কুলে ধর্মশিক্ষা নামে কোন বিষয় থাকাই উচিৎ না, শিশুরা নিরপেক্ষ চিন্তা করা শিখবে। পরে যদি কোন ধর্ম পড়ে, শুনে, বুঝে তার ভাল মনে হয় তবে সেদিকেই সে যেতে পারবে। আর যদি ধর্ম শিক্ষা দিতেই হয় তবে সেটা হতে পারে নীচের মতো –

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান বা শাস্তির ভয় না শিখিয়ে, স্কুলগুলোতে ‘ধর্ম পরিচিতি’ নামে একটি নিরপেক্ষ বিষয় চালু করা প্রয়োজন। যেখানে শিক্ষার্থীরা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের অনুশাসন মুখস্থ করার বদলে পৃথিবীর প্রধান কয়েকটি ধর্মের ইতিহাস, উৎস, মূল বাণী এবং প্রধান প্রথাগুলো সম্পর্কে জানবে। অন্য ধর্মের সংস্কৃতি ও বিশ্বাস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে শিশুদের মধ্যে ভিন্ন মতাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা তৈরি হবে। ফলে, কুসংস্কার ও মগজধোলাইয়ের মাধ্যমে সমাজে যে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও গোঁড়ামি ছড়ানো হয়, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে আসবে।

অনেকের ধারণা ধর্মগ্রন্থের বাণী পড়ালেই শিশুদের নৈতিক চরিত্র উন্নত হয়, যা আসলে একটি ভ্রান্ত ধারণা। প্রচলিত ধর্মীয় শিক্ষার মূল ভিত্তি হলো ভয়, আর ভয় মানুষের স্বাভাবিক চরিত্রকে নষ্ট করে। শিশুরা প্রাকৃতিকভাবেই অত্যন্ত কৌতূহলী। যে নিষ্পাপ শিশুটি মিথ্যা, চুরি বা পাপ কী তা জানেই না, তাকে “মিথ্যা বলা মহাপাপ” শেখানোর মাধ্যমে মূলত মিথ্যার সাথেই প্রথম পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। নিষেধের প্রতি কৌতূহল থেকে শিশুরা একসময় মিথ্যা বলায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠে, যা বড় হয়ে লোভ ও স্বার্থ চরিতার্থ করার হাতিয়ারে পরিণত হয়। তাই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের শিক্ষা স্কুল থেকে সরিয়ে সম্পূর্ণভাবে পরিবারের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত।

স্কুলগুলোতে মূলত বিভিন্ন ধর্মের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন শেখানো উচিত। সমাজে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার মূল কারণ হলো নিজের ধর্ম ও বিশ্বাসকে অন্য সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ভাবা। এই শ্রেষ্ঠত্বের মনস্তাত্ত্বিক অহংকারই সমাজে বিভেদ ও সহিংসতার জন্ম দেয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যদি নিজ ধর্মের পাশাপাশি অন্য ধর্মগুলোকেও সমানভাবে জানার সুযোগ পায়, তবে তারা বুঝবে যে কোনো ধর্মই তুচ্ছ নয়। এই মানসিকতা সমাজে পরমতসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি করবে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন একটি পাঠ্যবই তৈরি করা আহ্বান, যেখানে ইসলাম, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, ইহুদি, কনফুসিয়ানিজম এবং জৈন – এই সাতটি ধর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি নিধার্মিকতা, মানববাদ, আজ্ঞেয়বাদ সম্পর্কেও তাদের সাম্যক ধারনা দিতে হবে।

Related Posts

The Terrifying Spread of Extremism - Bangladesh

Threats of being burned to ashes in public: The shrinking of Bangladesh’s cultural sphere and the frightening spread of extremism

19 August 2026. That afternoon, a concert by popular rock bands Ashes and Nobelman wasRead More

The Terrifying Spread of Extremism - Bangladesh

প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়ার হুমকিঃ বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক পরিসরের সংকোচন ও উগ্রবাদের ভয়াল বিস্তার

১৯ আগস্ট, ২০২৬। কিশোরগঞ্জের ওল্ড স্টেডিয়ামে সেদিন বিকেলে জনপ্রিয় রক ব্যান্ড অ্যাশেজ ও নোবেলম্যানের কনসার্টRead More

The Grip of Fundamentalism in Bangladesh

Bangladesh will continue to suffer – and suffer greatly – from the consequences of nurturing these extremist fundamentalist groups

In Bangladesh, there has always been an extremist, religiously fanatical group that fears music, dance,Read More

Comments are Closed