
Scientists or Movie Stars ?
গবেষণাগার না স্টেডিয়াম, হাসপাতাল না সিনেমা হল, কোনটি বেশী দরকার ?
পাশাপাশি ২ টা স্টেডিয়াম। একই সময়ে দুটো আয়োজন। একটিতে ১০০০০ টাকার টিকেটের বিনিময়ে সালমান খান ও ক্যাটরিনা কাইফের অনুষ্ঠান। অন্যটিতে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারক বিজ্ঞানী মানুষের উদ্দেশ্যে দু’টো কথা বলবেন। ধরুন ভ্যাকসিনের কারনে মহামারি থেকে সবে উত্তোরন ঘটেছে। এই স্টেডিয়ামে প্রবশ ফ্রি। কোনটি কানায় কানায় পূর্ণ হবে আর কোনটিতে কিছু কাক স্টেডিয়াম দখলে নিবে সেটা নিশ্চয় বলতে হবে না।
রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়া জার্মানির এক বায়োলজিকাল রিসার্চার বলেছেন- এক মাসে একজন ফুটবলার কয়েক মিলিয়ন ইউরো আয় করে। আর একজন রিসার্চার আয় করে মাত্র ২৮০০ ইউরো। এক ছবিতে একজন ম্যুভি স্টার যা আয় করে – সারা জীবন গবেষনায় একজন গবেষক তার একশত ভাগের একভাগও আয় করেনা। আর এখন জীবন বাঁচাতে আপনি হন্য হয়ে ভাইরাসের প্রতিষেধক খুঁজছেন। যান না এখন মেসি, রোনাল্ডো, টমক্রুজের কাছে। ওরাই আপনার কিউর বের করে দিবে।
নেসেসিটির চেয়ে লাক্সারী যে পৃথিবীতে বড় হয়ে যায়, জীবন বাঁচানো মানুষদের চেয়ে বিনোদনের মানুষ সেলিব্রেটি হয়ে যায়, হাসপাতালের চেয়ে স্টেডিয়ামের, সিনেমার গুরুত্ব বেড়ে যায়- সেই অসভ্য সমাজেতো মানুষের বেঁচে থাকারই কোনো অধিকার নাই।
আপনি একটি বিজ্ঞান স্কুল, বিজ্ঞান মেলা, বিজ্ঞান প্রদর্শনী, বিজ্ঞান গবেষণার জন্য মানুষের কাছে যান। কারো সময় হবেনা আপনার কথা শোনার, অর্থদান তো দূরে থাক। অথচ একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান, ওয়াজ মাহফিল, একটি নামযজ্ঞ/কীর্তন, একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মান, কোন পীর/পুরোহিতের তিরোধান অনুষ্ঠান, এলাকায় কনসার্ট, ডিজে পার্টি এসবের জন্য যান – মানুষ টাকার বস্তা ঢেলে দিবে।
সাকিব, শাকিবরা স্টার হয় দেশে। দেশের মানুষরা তাদের ফলো করে, তাদের হাছি, কাশির খোঁজ রাখে মানুষ। কিন্তু কোন একটি ছেলে বা মেয়ে শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে নতুন কোন উদ্ভাবন করলে বা বিশ্বের সেরা কোন বিজ্ঞান গবেষণায় অবদান রাখলে তার নামও কেউ জানে না কোনদিন। দেশের নামকরা মেডিকেল ছাত্রটি যিনি শত শত মানুষকে সুস্থ করে তোলেন পরবর্তীতে তার নাম কেউ নেয়না। যে কৃষিবিজ্ঞানীরা উন্নত ফসলের ঠিকানা বের করে দিয়ে মানুষের খাদ্য যুগিয়েছে তাদেরকে কে চেনে ? তারা মানুষের হিরো হয় না। এমনই অকৃতজ্ঞ আমরা। আর আজ অপেক্ষায় বসে আছি কখন একজন বিজ্ঞানী, একজন রিসার্চার করোনার ভ্যাক্সিন নিয়ে এগিয়ে আসবেন।
মানব প্রজাতি সত্যি বড় অদ্ভুত ! গবেষণাগারের চেয়ে স্টেডিয়াম, হাসপাতালের চেয়ে সিনেমা হলের গুরুত্ব তাদের কাছে বেশী !
Related Posts

The fate of Salton City teaches that trying to control nature can lead to the opposite of what is intended
Salton Sea: The Story of a Haunted Dream After almost a 300‑kilometer drive in threeRead More

স্যালটন সিটির পরিনতি শেখায় প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রন করতে চাইলে হিতে বিপরীত হতে পারে
স্যালটন সাগরঃ এক ভুতুড়ে স্বপ্নের গল্প তিন ঘন্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার ড্রাইভ দিয়ে, সারি সারিRead More

Is the Earth and the universe orderly? Has everything been created only for humans?
Many Muslim people argue by saying, look, how orderly the earth and the universe are,Read More

Comments are Closed