Evolution
Evolution and Some Hypocrite Bengalis

Evolution and Some Hypocrite Bengalis

বিবর্তন তত্ত্বের মাধ্যমে আবিষ্কৃত সব কিছুর সুবিধা নিয়েও দিনশেষে তারা বলেন বিবর্তন মিথ্যা

বিবর্তন কি তা গত দুইটা বছরের দিকে তাকালেই তা স্পষ্ট। করোনা ভাইরাস যে পরিমান মিউটেশন দেখিয়েছে তাতে বিবর্তন কি জিনিস তা সবার বোঝা উচিত। নতুন ভ্যারাইটি আসার সাথে সাথে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের ভ্যাকসিন পানিতে ফেলতে হয়েছে, নতুন ভ্যাকসিন ডিজাইন করতে হয়েছে। ইউরোপের ভ্যারিয়্যেন্ট এশিয়া থেকে আলাদা, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, ইউএসএ, সাউথ আফ্রিকান ভ্যারাইটি গুলোর জিনোম সিকোয়েন্স কি এক? উন্নত প্রানীদের বিবর্তন দৃশ্যমান হতে অনেক সময় লাগে। হয়তো দুই বছরে করোনা ভাইরাস অন্য ভাইরাস হয়ে যায়নি। কিন্তু বিবর্তন ঘটছে। আর মানুষের মধ্যে যদি বিবর্তন না ঘটতো তবে ইউরোপ আমেরিকার লাশের মিছিল আমাদেরকেও দেখতে হতো। এক ভ্যারিয়্যেন্ট সবার জন্য সমান প্রানঘাতী হতো।

ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার জেনেটিক মিউটেশনের উদাহরন দিলে শিক্ষিত ধার্মিক লোকজন যাদের ধর্ম-বিজ্ঞান দুইকূলই রাখতে হয় তারা এখন বলে (উপায় না দেখে) “মাইক্রো ইভোলিউশন হয় কিন্ত ন্যাচারাল সিলেকশানের মাধ্যমে ম্যাক্রো ইভোলিউশন হয় না”। আমার মনে হয় কয়েকদশকের মধ্যে এই বক্তব্য আরো পাল্টাবে – তখন বলবে ইভোলিউশন হয় এবং ধর্মগ্রন্থেই বলা আছে ইভোলিউশনের কথা। বিজ্ঞানীরা ধর্মগ্রস্থ পড়েই এই থিউরি দিয়েছে! টিভিতে হয়তো অনুষ্ঠান হবে – ধর্মের আলোকে ন্যাচারাল সিলেকশন। হয়তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক, বা ঢাকা মেডিক্যালের কোন শিক্ষক হবেন সেই অনুষ্ঠানের অতিথি!

যদিও বস্তু পরিবর্তনশীল কিন্তু আমাদের চারপাশের মানবসৃষ্ট বাস্তবতা স্ট্যাটিক করে রাখার একটা পাঁয়তারা সেই আদিমকাল থেকে প্রচলিত। ইতিহাসের কোনো সময়ে আমরা (বঙ্গ অঞ্চলের মানুষেরা) নিজেদের মগজ দিয়ে চলিনি, একটা মুহুর্তের জন্যও সেই সৌভাগ্য আমাদের হয়নি।

আমাদের জ্ঞানের ইতিহাসের সিংহভাগ অনুদিত। সেই অনুদিত জ্ঞান আবার প্রয়োগবিমুখ। মুখস্তবিদ্যা এই অঞ্চলে বরাবরই জয়ী। কেননা আমাদের সৃজনশীল বিদ্যা দরকার-ই হয় নাই। আমাদের রাষ্ট্র চালাতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান লাগে? আমরা স্যাটেলাইট বানিয়ে নিয়েছি, উড়িয়েছি বিদেশের মাটিতে; সেজন্যই আমাদের মালিকানায় স্যাটেলাইট থাকলেও স্যাটেলাইট সমন্ধে নূন্যতম তথ্যও আমাদের মায়েরা চাচীরা জানেন না। ভ্রান্তিটা হচ্ছে এখানে, আমাদের সবার হাতে স্মার্টফোন আছে, সেই স্মার্টফোনে আমরা দেখছি বিদ্বেষের বীজ, ঘৃণা-অজ্ঞতার বীজ। আমরা স্মার্টফোন স্মার্টলি ব্যবহার করতে পারছি না। কেননা, এই ফোন যারা আবিষ্কার করেছে তাদের থেকে টাকাকে ডলারে কনভার্ট করে ফোন ক্রয়টা সম্ভব হলেও তাঁদের সামাজিক উপলব্ধি/ সামাজিক জ্ঞানের স্তরকে ক্রয় অসম্ভব।

আমাদের মেধা আমেরিকায় গেলে, ইউরোপে গেলে সাধারণত ফেরে না; আমাদের পুঁজিও তাই। আমরা যেমন মেধায় স্ট্যাটিক থেকে যাচ্ছি, তেমনি পুঁজিতে। স্বাধীনতার পর কতজন নির্বাচিত প্রতিনিধি পেয়েছি আমরা? ইউরোপের একটা দেশে এমন সময়ের ব্যবধানে কতজনকে দেখা যাবে? এখানেও আমরা বেশ স্ট্যাটিক। এসব হাজারও কৃত্রিম স্ট্যাটিকতার সম্মিলিত অনুভূতি নিশ্চিতভাবেই ধর্মীয় স্ট্যাটিক পজিশনকে শক্তিশালী করবে। ফলে, ধর্মের যে গতি তা আমাদের নজরেই আসেনা। আমরা খেয়ালই করিনা আজ থেকে পাঁচ-সাতশো বছর আগে দেওয়া ধর্মীয় ফতোয়ার সাথে চলমান ফতোয়ার আকাশ পাতাল ব্যবধান; কিন্তু ধর্ম ইটসেলফ স্থির। এর কোন বর্ণেও পরিবর্তন হয়নি, পরিবর্তন এসেছে ব্যাখ্যায়। এক সময় মাইক নিষিদ্ধ বলে ব্যাখ্যা আসতো, পরে মাইকের প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবে সে ব্যাখ্যায় পরিবর্তন আসলো। ওষুধ, ভ্যাকসিন, সংক্রামক রোগ, ছবি, ভিডিওসহ শত শত উদাহরণ আছে এর।

আমরা ইতিহাসের এমন একটা পরিস্থিতির ভেতর বসবাস করেছি যেখানে পরিবর্তন সাধারণত পতনকে নির্দেশ করেছে; আমরাও চামড়ার চোখে দেখেছি পরিবর্তন মানে পতন; আমরা পরিবর্তনকে ছেড়ে স্থির জীবনে আনন্দ খুঁজতে বাধ্য হয়েছি। মূলত জাতিগতভাবে আমরা পরিবর্তনকে ভয় পাই। এই ভয় আমাদের মগজে গেঁথে দেওয়া হয়েছে। এমন ভয় মধ্যযুগে ইউরোপও পেয়েছে চার্চের থেকে, তবে নিউটোনিয়ান মেকানিক্স প্রদত্ত ইঞ্জিনের শব্দে ওদের সেই ভয় কেটে গেছে; আর আমাদের পূর্বপুরুষরা সেই ইঞ্জিনের শব্দেই রাস্তা ছেড়ে দূরে দাঁড়িয়ে মনে করেছেন, এই বুঝি দেবরাজ ইন্দ্র বা এমন কেউ; অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন যানে চেপে চলে গেলো চোখের পলকে।

আমাদের বিজ্ঞান ভয় দেখিয়েছে, ধর্ম ভয় দেখিয়েছে; আমরা ভীতু হয়েছি, জাপটে ধরতে চেয়েছি কিছু; আমরা বিরুদ্ধ স্রোতে ইতিহাসের অংশ হয়েছি, টিকে থাকাই যেখানে মূখ্য; বিকাশটা খুব গৌণ।

এজন্যই আমাদের অধিকাংশই “বিগব্যাং” মানে করে কিন্তু “বিবর্তনবাদ” মানে না, বিবর্তন তত্ত্ব থেকে আবিষ্কৃত সকল সুবিধা নিবে কিন্তু সেটাকে মানবে না! বিগব্যাং তত্ত্বানুযায়ী, মহাবিশ্বের শুরুতে কোন গ্রহ-উপগ্রহ-নক্ষত্র কিছুই ছিল না, শুধু বিশাল পরিমাণ শক্তি বা এনার্জির স্যুপ একটা বিন্দুবৎ স্থানে কম্প্যাক্ট অবস্থায় ছিল, এবং এটা থেকেই বেরিওজেনিসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রথমে মৌলিক কণিকাসমূহ, পরবর্তীতে সেখান থেকে অণু-পরমাণুর সৃষ্টি হয়। এগুলি থেকে তারও বহু পরে (বিলিয়ন বিলিয়ন বছর পরে)

গ্রহ-উপগ্রহ-নক্ষত্রের সৃষ্টি হয়। তাহলে সার কথা দাঁড়ায় –
এনার্জি স্যুপ -> মৌলিক কণিকা -> অনু-পরমানু -> গ্রহ-উপগ্রহ-নক্ষত্র
পুরো প্রক্রিয়াটাই দাঁড়িয়ে আছে বিবর্তনের উপর। সূর্য প্রতিনিয়ত জ্বালানি হারাচ্ছে, সময়ের সাথে এর পরিবর্তন ঘটছে, এগিয়ে যাচ্ছে মৃত্যুর দিকে।

Everything is evolving with time.
পরিবর্তন বা বিবর্তন হচ্ছে এই মহাবিশ্বের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য, a fundamental law of nature. এই বৈশিষ্ট্য না থাকলে মহাবিশ্ব এই পর্যায়ে আসত না এবং কোটি কোটি বছরের বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের উৎপত্তিও ঘটত না।

একটা স্ট্যাটিক (static) বা অপরিবর্তনশীল মহাবিশ্বে সময় বা টাইমের ধারণা কল্পনায়ও আনা যায় না এবং নিষ্প্রয়োজনীয়ও বটে।
এবার একটা মজার বিষয় বলি, যারা বিশ্বাস করেন এক সময় মানুষ ৯০ ফুট লম্বা ছিল কিন্তু তারা আবার এটা মানবেন না আমরা যদি তার উত্তরসূরী হয়ে থাকি তবে আমাদের উচ্চতা ৯০ ফুট থেকে কীভাবে আজকের দিনে এভারেজ ৫.৫ ফুটে পৌছেয়েছে? যদিও আগে মানুষের উচ্চতা বরং কমই ছিল। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ৯০ ফুট মানুষ সম্ভবই না, কোনভাবে ৭/৮ ফুট হয়ে গেলেই তার জীবন দূর্বিষহ হয়ে পড়ে। এ সম্পর্কে আমার আগে অনেক লেখা আছে।

তাই যে গোষ্ঠীটি হট বিগব্যাং মানে কিন্তু বিবর্তনবাদ মানে না, তাদের দেখলে আসলে হাসিই পায়। তারা কিন্তু বিবর্তন তত্ত্বের চেয়ে শক্তিশালী ও প্রমানিত কোন তত্ত্বও হাজির করতে পারে না। তাদের সব কিছুর মূলে ঐ ধর্মীয় ব্যাখ্যাগুলো। যে জটিল প্রক্রিয়ায় বিগব্যাং-এর মাধ্যমে এনার্জির স্যুপ থেকে গ্রহ-উপগ্রহ-নক্ষত্রের সৃষ্টি হওয়া সম্ভব, সেই তুলনায় বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের উৎপত্তি ঘটা তো তেমন কিছুই না। বেশীদিন না, ২০ বছর অপেক্ষা করুন, দেখবেন তারা বলা শুরু করবে বিবির্তন তত্ত্ব ঐখানে ছিল বা আছে, ঐখান থেকেই বিবির্তন তত্ত্ব এসেছে এখন যেমন বলে অনেক আবিষ্কার সম্পর্কে।

Related Posts

Are humans the best of creation?

Humans cannot even see 1% of the beauty and colors of Earth and the universe! Are humans really the best of creation?

The human eye can generally detect visible light or color in the wavelength range ofRead More

Are humans the best of creation?

পৃথিবী ও মহাবিশ্বের সুন্দর জিনিসের ১% সৌন্দর্যের রঙও মানুষ দেখতে পায় না! মানুষ কি সৃষ্টির সেরা?

মানুষের চোখ সাধারণত ৩৮০ থেকে ৭৪০ ন্যানোমিটার (nm) তরঙ্গদৈর্ঘ্যের (wavelength) দৃশ্যমান আলো বা রঙের রেঞ্জRead More

The size of a woman's breasts and hips

Why does Allah show such preference for women with large breasts and large buttocks? Do men feel the same way? Does this give women any advantage?

If you leave Prophet Muhammad in Pattaya’s Walking Street and Beach Road after evening, inRead More

Comments are Closed